যে উপায়ে পাচারের টাকা-সম্পদ ফিরিয়ে আনা যাবে দেশে

mahmud
0

 ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থাকা বড় অর্থপাচারকারীদের টাকা দেশে ফেরাতে তৎপরতা চালাচ্ছে সরকার।
যদিও পাচার করা অর্থ ফেরানোর প্রক্রিয়া জটিল ও সময়সাপেক্ষ, তবে তা অসম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন আফজাল হোসেন।


অন্যদিকে, কেউ কেউ টাকা পাচারকারীদের শনাক্ত করে দ্রুত তাদের পাসপোর্ট বাতিলের পরামর্শ দিয়েছেন। আইনজীবীরা মতামত দিয়েছেন যে, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ ও সম্পদ যেন কেউ উপভোগ করতে না পারে, সেজন্য তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড নিশ্চিত করা উচিত।


দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। অর্থপাচার রোধ এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংক ও এফবিআইসহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিগত সরকারের তুলনায় এ সরকারের পদক্ষেপগুলোকে আইন বিশেষজ্ঞরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।


তবে একবার দেশের বাইরে চলে যাওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা কি সহজ? এ বিষয়ে আইনজীবীরা কিছুটা হতাশাবাদী। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক চুক্তি ও আইনের মাধ্যমে অর্থ ফেরত আনার সুযোগ থাকলেও, তা অত্যন্ত জটিল এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া।


জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম বলেছেন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের কনভেনশন অনুযায়ী প্রমাণসহ বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে অনুরোধ করতে হবে। অর্থের সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে মামলা পরিচালনা করতে হবে এবং সেই দেশের কনভেনশন অনুযায়ী অর্থ ফেরত পাঠানো হবে।


সুপ্রিম কোর্টের আরেক আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুনের মতে, অর্থপাচারকারীরা যদি স্বেচ্ছায় অর্থ ফেরত না আনে কিংবা সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ না করে, তবে এ অর্থ ফেরানো অত্যন্ত কঠিন।


ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এর সাবেক সভাপতি আব্দুল আওয়াল মিন্টুও একই মত প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, পাচারকারী ব্যক্তিকে ধরা গেলে অর্থ ফেরানো সম্ভব। তবে ব্যক্তি এবং সম্পদ উভয়ই বিদেশে থাকলে তা ফেরানো বেশ কঠিন।


সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মাসুদ আর সোবহানের মতে, পাচারকারী ব্যক্তির পাসপোর্ট বাতিল করে দ্রুত অর্থ ফেরানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে, যদি সেই দেশ তাদের রাজনৈতিক আশ্রয় না দেয়।


আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৫০ জনের বেশি ব্যক্তির অর্থপাচার ও দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। তবে গত ১৭ বছরে মাত্র একজনের অর্থ দেশে ফেরানো এবং আরেকজনের বিদেশে থাকা সম্পদ জব্দ করতে পেরেছে দুদক।


একটি বৈশ্বিক আর্থিক গবেষণা সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি বছর গড়ে ৮০ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়ে যাচ্ছে।

Post a Comment

0 Comments
Post a Comment (0)
To Top