টেস্ট ফরম্যাটে নিজের শেষ ম্যাচটা দেশের মাটিতে এসে খেলতে চেয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। তবে নিরাপত্তার ব্যাপারে শঙ্কাও প্রকাশ করেছিলেন। দেশে এসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সাকিব খেলতে পারবেন কিনা তা নিয়ে রয়েছে শঙ্কা।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হয়ে সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন সাকিব আল হাসান। সেখানে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাকিব। পরে জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ফলে সাকিবের সংসদ সদস্যের পদটা চলে যায়।
আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হওয়ার পাশাপাশি ছাত্র আন্দোলনের পুরোটা সময়জুড়ে সাকিবের নিশ্চুপ থাকায় তার প্রতি দর্শক, সমর্থকদের একটি বড় অংশের রয়েছে ক্ষোভ। এছাড়া আওয়ামী সরকারের পতনের পর তার নামে একটি হত্যা মামলাও দায়ের করা হয়েছে। যদিও ঘটনার সময়ে সাকিব ছিলেন কানাডায়। সম্প্রতি অবসরের ঘোষণা দেওয়ার সময় দেশে ফিরতে নিরাপত্তার অভাব বোধ করার কথা জানিয়েছেন সাকিব। এই বিষয়ে সাকিবের নিরাপত্তা দিতে অপরাগতার কথা জানিয়েছিলেন বিসিবি প্রধান ফারুক আহমেদ।
এবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। তার মতে, খেলোয়াড় সাকিবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আছে। তবে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সাকিবের নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবে না বলে জানান আসিফ। নিজের ফেসবুক পেইজের এক পোস্টে আসিফ মাহমুদ লিখেছেন, ‘খেলোয়াড় সাকিবের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আছে। তবে ফ্যাসিস্ট সরকারের সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানের বিপক্ষে জনমনে তৈরি হওয়া ক্রোধের বিপরীতে নিরাপত্তা দেওয়ার নিশ্চয়তা চাওয়া অবান্তর।’
এছাড়া গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে আলাপকালে আসিফ মাহমুদ আরও বলেছেন, ‘বিসিবি হয়ত এ বিষয়ে একটা বক্তব্য দিয়েছে। রাষ্ট্রের জায়গা থেকে রাষ্ট্র প্রত্যেক নাগরিককে নিরাপত্তা দিতে বাধ্য। সেটা আমরা তো অবশ্যই করব। এখানে সাকিব আল হাসানের পরিচয় দুইটা। খেলোয়াড় হিসেবে উনার পরিচয়, আরেকটা হচ্ছে উনার রাজনৈতিক পরিচয়। উনি আওয়ামী লীগের প্যানেল থেকে সংসদ নির্বাচন করেছিলেন। মানুষের মধ্যে তো এই দুইটা নিয়েই মিশ্র প্রতিক্রিয়া আছে। এখন খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের একজন খেলোয়াড়কে যতটুকু নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব সেটা আমরা দিব। তিনি দেশে আসলে সেটা আমরা দিব। তার নামে যে হত্যা মামলা হয়েছে ইতোমধ্যে আমরা বলেছি, আইন মন্ত্রণালয়ও বলেছে সংশ্লিষ্টতা না থাকলে প্রাথমিকভাবেই নামটা বাদ দেওয়া হবে।’
