নিউইয়র্কের টাইম ম্যাগাজিনই কপাল পুড়াল শেখ হাসিনার

mahmud
0


টাইম ম্যাগাজিনের কভারে আসা অনেক নেতার জন্য একটি সম্মানজনক বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি পৃথিবীর অন্যতম জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী ম্যাগাজিন, যার কভারে স্থান পাওয়া মানে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পাওয়া। তবে, এর সঙ্গে একটি রহস্যময় তত্ত্বও জড়িয়ে আছে—টাইমের কভারে স্থান পাওয়ার পর অনেক নেতার জন্য রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত বিপর্যয় শুরু হয়।


এ ধরনের তত্ত্বকে সমর্থন করার জন্য বেশ কিছু উদাহরণও রয়েছে। ১৯৮২ সালে স্টিভ জবস টাইম ম্যাগাজিনের কভারে আসার কয়েক বছরের মধ্যেই তাকে অ্যাপল থেকে বের করে দেওয়া হয়। ২০১০ সালে ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ কভারে আসার পর ফেসবুক একের পর এক বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে, যার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারি।


রাজনীতির ক্ষেত্রেও এমন ঘটনা রয়েছে। টাইমের কভারে উঠে আসা অনেক বিশ্বনেতার রাজনৈতিক জীবন পরবর্তীতে বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। যেমন, বেনজির ভুট্টো, আনোয়ার সাদাত, ইন্দিরা গান্ধী, এবং মুয়াম্মার গাদ্দাফি—এরা সবাই টাইমের কভারে আসার পর তাদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংসের পথে চলে যায়। বাংলাদেশেও এর প্রভাব দেখা গেছে। ২০০৬ সালে খালেদা জিয়া টাইম ম্যাগাজিনের কভারে স্থান পাওয়ার পর তার রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে এবং তিনি আর কখনোই ক্ষমতায় ফিরতে পারেননি।


২০২৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টাইম ম্যাগাজিনের কভারে আসেন। সেখানে তার নেতৃত্বের কঠোরতা এবং দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নিয়ে আলোচনা করা হয়। তবে, এর কিছুদিন পরেই দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয় এবং ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে তাকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়। অনেকে এই ঘটনাকে টাইম ম্যাগাজিনের তথাকথিত "অভিশাপ" এর সঙ্গে তুলনা করছেন, এবং প্রশ্ন তুলছেন—শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও কি এই কভার ফিচার তার রাজনৈতিক পতনের শুরু ছিল?


যদিও এই ধরনের তত্ত্বের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই, তবে ইতিহাসের নানা উদাহরণ এই বিশ্বাসকে মজবুত করেছে যে, টাইম ম্যাগাজিনের কভারে আসা অনেক সময় নেতাদের জন্য সৌভাগ্যের বদলে এক ধরনের অশুভ সংকেত হয়ে দেখা দেয়।

Post a Comment

0 Comments
Post a Comment (0)
To Top