চেন্নাই টেস্টে ভারতের কাছে ২৮০ রানে হেরেছে বাংলাদেশ দল। ম্যাচে দাপট দেখিয়ে জিতেছে ভারত। নাস্তানাবুদ হয়েছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল টিম ইন্ডিয়া।
চেন্নাইয়ের উইকেট বিবেচনায় দুই দলই খেলিয়েছে ৩ পেসার, ২ স্পিনার। কমবেশি সফলও ছিলেন পেসাররা। তবে কানপুর টেস্টের জন্য বাংলাদেশের একাদশে একজন পেসার (তাসকিকে) কমিয়ে একজন স্পিনার বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন ভারতের জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার সঞ্জয় মাঞ্জরেকার। তৃতীয় স্পিনার হিসেবে তাইজুল ইসলামকে একাদশে দেখতে চান মাঞ্জরেকার।
ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফোর এক ভিডিওতে চেন্নাই টেস্টে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স প্রসঙ্গে মাঞ্জরেকার বলেন, ‘আমি কেবল ইতিবাচক দিকেই নজর দিতে চাই। ওপেনাররা ভালো অ্যাপ্রোচ, স্কিল দেখাতে পেরেছে। তবে যখনই তারা ৩০ রান করল, মনে হয়েছে যেন তাদের মানসিক শক্তি, জ্বালানি শেষ হয়ে গেছে। ফলে সেসব ৩০ রানকে সেঞ্চুরিতে পরিণত করতে হবে। যদি আপনাকে ভারতের মত দলকে চ্যালেঞ্জ জানাতে হয়।’
ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফোর এক ভিডিওতে চেন্নাই টেস্টে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স প্রসঙ্গে মাঞ্জরেকার বলেন, ‘আমি কেবল ইতিবাচক দিকেই নজর দিতে চাই। ওপেনাররা ভালো অ্যাপ্রোচ, স্কিল দেখাতে পেরেছে। তবে যখনই তারা ৩০ রান করল, মনে হয়েছে যেন তাদের মানসিক শক্তি, জ্বালানি শেষ হয়ে গেছে। ফলে সেসব ৩০ রানকে সেঞ্চুরিতে পরিণত করতে হবে। যদি আপনাকে ভারতের মত দলকে চ্যালেঞ্জ জানাতে হয়।’
মাঞ্জরেকার আরও বলেছেন, ‘সাকিব (আল হাসান), মুশফিকরা (মুশফিকুর রহিম) তরুণ নয়, তারা অনেক দিন ধরে খেলছে। ফলে এসব সিরিজে তাদের আরও শক্তপোক্ত হতে হবে মানসিকভাবে, সাথে লিটন দাসেরও। এসব জায়গায় তাদের উন্নতি লাগবে বাংলাদেশের। এর বাইরে তাদের পেস ইউনিটে আশার আলো রয়েছে। তাদের ব্যাটারদেরও ভালো সামর্থ্য আছে, স্পিন তাদের জন্য কোনো সমস্যা হবেনা। টার্নিং পিচে তাইজুল আসলে ভারতকে তারা বিপদে ফেলে দিতে পারে।’
মাঞ্জরেকার আরও বলেছেন, ‘ভারতে খেললে আসলে আপনি চাইবেন না ৩ পেসার খেলাতে। গ্রিন টপে খেললেও ৩য় বা ৪র্থ দিনে গিয়ে পিচ টার্ন করবে। ২ জন পেসারই যথেষ্ট। তাইজুলের ফেরা উচিত (একাদশে)। কারণ সাকিবকে দেখে মনে হচ্ছে সে ব্যাটিং অলরাউন্ডার হিসেবে খেলতে চায়। ফলে এক পেসার কমিয়ে এক স্পিনার বেশি খেলানো দরকার। ভারত এটা হয়ত পছন্দ করবে না, তারা চাইবে বাংলাদেশ বেশি পেসার খেলাক।’
চেন্নাই টেস্টে বড্ড চোখে লেগেছে সাকিবের নির্বিষ বোলিং। ব্যাট হাতেও খুব একটা জ্বলে উঠতে পারেননি তিনি। এসবের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বোলার সাকিবকে নিয়ে মাঞ্জরেকার বলেছেন, ‘তার জন্য একটা বড় সমস্যা হচ্ছে ভারতীয় দলে অনেক বেশি বাঁহাতি ব্যাটার। শীর্ষ ছয়ে তিনজনই বাঁহাতি। যশস্বী জয়সোয়াল, রিশভ পান্ট এবং রবীন্দ্র জাদেজা তিনজনই বাঁহাতি এবং তারা ভালো ব্যাটসম্যানও। ফলে সে কিছুটা চাপে ছিল। আরেকটা সমস্যা হচ্ছে উইকেট টার্নিং ছিল না। সাকিব এমন বোলার যে টার্নিং উইকেট পেলে ঠিকঠাক বোলিং করে ব্যাটারদের সমস্যায় ফেলতে পারে।’
সাকিবের ব্যাপারে মাঞ্জরেকার আরও বলেছেন, ‘এই ধরনের উইকেট দেখে এবং প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের দেখে হয়তো তার মনে হয়েছে যে তার ব্যাটিং অলরাউন্ডার হিসেবে খেলাটাই বেশি ভালো হবে। কারণ, প্রথম ইনিংসে যে ধরনের ব্যাটিং সে করেছে, মনে হচ্ছিল বেশ উজ্জীবিত হয়ে আছে। বোলিংয়ে তাকে আমার তেমন উজ্জীবিত মনে হয়নি। পাশাপাশি এটাও বলতে হবে যে নাজমুল হোসেন শান্ত তাকে কম বোলিং করিয়েছে। যখন রিশভ পান্ট ব্যাট করছিল, শুধু মেহেদী হাসানই এক প্রান্তে বোলিং করে গেল। ম্যাচআপের কারণেই এমনটা হয়েছে।’
সর্বশেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপ থেকেই সাকিবের পারফরম্যান্স নিয়ে টুকটাক প্রশ্ন উঠছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও তা উঠেছিল। লম্বা সময় ধরে ব্যাট বা বল হাতে সাকিবসুলভ পারফরম্যান্স দেখাতে পারছেন না এই টাইগার অলরাউন্ডার। সেই সাথে মাঠের বাইরের তর্ক-বিতর্ক তো লেগেই থাকে। সব মিলিয়ে সাকিবের শেষের শুরুটাও যেন দেখতে শুরু করেছেন সমর্থকরা।
চেন্নাই টেস্টে জিতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে এখন ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ভারত। সিরিজের দ্বিতীয় এবং সর্বশেষ টেস্ট আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর, কানপুরে।
