নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় শ্বশুরবাড়ির বিল থেকে মিজানুর রহমান মহিনের (৫০) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার আতঙ্কে পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে একটি গ্রাম। ফলে ওই পরিবারগুলোতে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে, এবং আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তারা।
নিহত মিজানুর রহমান লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানার বাসিন্দা। তিনি চাটখিল উপজেলার হাটপুকুরিয়া ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের হামিদ মুহুরীর বাড়িতে বিবাহসূত্রে যুক্ত ছিলেন। গত শুক্রবার শ্বশুরবাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর, রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের স্ত্রী মালেকা বেগম ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৭-৮ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় প্রতিহিংসার অভিযোগে আসামিদের অনেকেই গ্রেপ্তার আতঙ্কে এলাকা ছেড়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মিজানুর রহমান তার শ্বশুরবাড়ির এলাকার লিনা আক্তারের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। ঋণের টাকা পরিশোধ না করায় ২০ সেপ্টেম্বর লিনা আক্তার ও তার দুই ছেলে মিজানুরকে মারধর করেন। টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর মিজানুর পালানোর চেষ্টা করেন, এবং ধারণা করা হচ্ছে পালানোর সময় তিনি কচুরিপানার মধ্যে আটকে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
লিনা আক্তারের শাশুড়ি কমলা বেগম বলেন, মিজানুর কৌশলে আড়াই লাখ টাকা নিয়েছিলেন, যার একাংশ খরচ করেছেন এবং বাকিটা অন্যদের দিয়েছেন। ঘটনাস্থলে তাদের পরিবারের কেউ উপস্থিত ছিলেন না বলেও তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে, লিনা আক্তারের জ্যা শাহিদা আক্তার জানান, মিজানুর তার জ্যা লিনার কাছ থেকে তার ও শাশুড়ির চেইনসহ আড়াই লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন। তবে, মামলা করে তাদের পরিবারের নির্দোষ সদস্যদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে, এবং পুরুষদের এলাকা ছাড়া করতে বাধ্য করেছে। চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমদাদুল হক জানান, তদন্ত চলছে এবং প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

